শিরোনাম
দৈনিক অনুসন্ধান | ০১:৪৯ পিএম, ২০২৫-০৪-১৩
মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী,টেকনাফ।
টেকনাফে প্রচন্ড খরার মৌসুমে ভূগর্ভস্থের পানির স্তর নিছে যাওয়ায় খাবার ও ব্যবহার্য পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পুকুরসহ পানির প্রায় উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় এই সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। বেশিরভাগ টিউবওয়েলে (হস্তচালিত নলকূপ)পানি উঠছে না মোটেও। প্রতিবছর টেকনাফ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে সরকারি এবং বিদেশি এনজিও সংস্থা পানির সমস্যা নিরসনকল্পে অর্থায়ন করলেও এ সমস্যা নিরসন হয়নি। খোজ নিয়ে জানা যায়,বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি বেসরকারিভাবে প্রদত্ত পানি প্রকল্পটি দলীয় বিবেচনায় ব্যবহারিত হয়েছিল।বিশেষ করে এনজিও সংস্থা হাইসওয়ে টেকনাফ পৌরসভা সহ ইউনিয়নে পানি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিল। উক্ত প্রকল্প থেকে জনগণ উপকৃত হয়নি। এসব প্রকল্পের টাকা জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাতিয়ে নিয়েছিল। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে আসছে।
স্থানীয় একাধি সুত্র জানায়, টেকনাফ উপজেলার পানির উৎস গভীর-অগভীর নলকুপ, রিংওয়েল বা পাতকুয়া, পুকুর, খাল, জিরি বা ঝর্ণা। বিগত বছর গুলোতে শুস্ক মৌসুমে কেবলমাত্র অগভীর নলকূপে পানি ছিলোনা।এবছর একটু ব্যতিক্রম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকেরা।
বিভিন্ন এলাকাঘুরে দেখা গেছে, চলতি বছর শুস্ক মৌসুমে বেশির ভাগ নলকুপে (টিউবওয়েল)
পানি পাওয়া যাচ্ছেনা।অন্য বছরগুলোতে লোকজন পুকুর জিরি বা ঝর্ণা এবং পাতকুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতো। এবছর জিরি বা ঝর্ণা এবং পাতকুয়াতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ওই সব উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছেনা। সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্য বছরের তুলনায় এবছর গ্রামাঞ্চলের পুকুর সমুহ শুকিয়ে গেছে। অনেকগুলো পুকুর শুকিয়ে একেবারে চৌচির হয়ে গেছে। প্রায় এলাকায় পুকুরসহ পানির সব উৎস শুকিয়ে যাওয়াতে মানুষ এখন পুরোটা গভীর নলকুপের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত গভীর নলকুপে দিবারাত্রি পানির সংগ্রাহের ভীড় লক্ষ্য দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,চলতি বছর শুস্ক মৌসুমে উপজেলার পৌরসভা সহ ৭ ইউনিয়নের অনেক এলাকায় গভীর নলকুপে পানি উঠছেনা।গভীর নলকুপে পানি না থাকায় ওই সব এলাকার মানুষকে দূর দুরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। অনেকে অটো রিকসা বা ভ্যানে করে খাবার পানি সংগ্রহ করছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সংকটপুর্ণ এলাকা সমুহে আধুনিক এবং টেকসই পানি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে শুস্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকেবেলার দাবী জানিয়েছেন টেকনাফ পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র আব্দুল্লাহ মুনির।তিনি টিউবওয়েলের পরিবর্তে গভীর নলকুপ খনন এবং দুর্গম এলাকা সমূহে বাস্তব সম্মত গভীর রিংওয়েল খননের জন্য সরকারের দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন। এছাড়া গ্রামাঞ্চালের অন্যতম পানির উৎস পুকুর দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় এসব পুকুর অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে বলে দাবী করেন।ভরাট হওয়া ওই সব পুকুর পুনঃখনন করলে পানির সমস্যা লাঘবে অনেকটা সহায়ক ভুমিকা রাখবে বলে জানিয়ে তিনি পুকুর খননে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।
হ্নীলা গুলফরাজ হাশেম ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা জসিম উদদীন জানান ,২০০৯ সালে ফাউন্ডেশনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত গভীর নলকুপটি এবছর হঠাৎ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। গভীর এই নলকুপ দিয়ে আচমকা পানি না উঠার কারণে ফাউন্ডেশনে সুপেয় খাবার পানি ও মুসল্লীদের অজু এবং ব্যবহার্য পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাশের পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় এই সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করছে।
হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়েনের চেয়ারম্যান, অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান,টেকনাফের প্রত্যন্ত এলাকাজুড়ে বর্তমানে পানির হাহাকার চলছে। তিনি ওয়াটার নেটওয়ার্কির মাধ্যমে এসব এলাকায় পানি সরবরাহের পরামর্শ প্রদান করে বলেন,চলতি শুস্ক মৌসুমে টেকনাফের পানির সংকট মোকাবেলায় ওয়াটার ট্রিটম্যান প্লান স্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।
বর্তমানে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইকং ইউনিয়নের রইক্ষং,কান্জরপাড়া, নয়াপাড়া,কম্বনিয়া পাড়া,হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী,রঙ্গিখালী,লেদা,মোচনী,দমদমিয়া,টেকনফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া,পুরান পল্লানপাড়া,জালিয়াপাড়া,শিলবনিয়াপাড়া, উত্তর জালিয়া পাড়া,কুলাল পাড়া, চিতাকোলা সহ বিশুদ্ধ পানির অধিকতর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। টেকনাফ পৌরসভা সৃষ্টির পর থেকে পানির সমস্যা নিরসন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ পৌরসভার মূলত প্রধান সমস্যা খাবার পানি। নাইটং পাড়া এবং ফকিরা মুরায় সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে পানি প্রকল্প হাতে নিলেও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমত অবস্থায় পানি সমস্যা নিরসনকল্পে উপজেলা পরিষদের আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় দাবি উঠেছিল, টেকনাফের সংরক্ষিত পাহাড়ে ১৫ টি পাহাড়ি ছড়ায় বর্ষা মৌসুমে বাঁধ নির্মাণ করে পৌরসভায় পানি সরবরাহ করে পানি সমস্যা প্রায় নিরসন হবে। টেকনাফ পৌরসভার সাবেক মেয়র মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বিগত সরকারের আমলে টেকনাফ উপজেলায় প্রায় শতাধিক দেশি বিদেশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থাকা অবস্থায় কেন? টেকনাফে পানি সমস্যা নিরসন হয়নি তা নিয়ে সচেতন নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো: ফারুক হোসেন জানান,পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় মাটির তলদেশে এক ধরণের পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শুকিয়ে যাওয়া গভীর এবং অগভীর নলকুপের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আশ্বস্থ করে বলেন, চিন্তার কোন কারণ নেই বৃষ্টিপাত হলেই ওই সব নলকুপ থেকে সুন্দরমত পানি পাওয়া যাবে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা আরো জানান,উপজেলার যে সব এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিবে সে সব এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সুপেয় পানির সংকট মোকাবেলায় ওয়াটার ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে পানি সংবরাহ করা হবে।#
অনুসন্ধান অনলাইন ডেস্ক : চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় ইফতারের আগ মুহূর্তে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। পারিবারিক কলহের জ...বিস্তারিত
অনুসন্ধান অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ উদ্বোধনের নামফলকে নিজের নাম দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সড়ক পরিবহন ও...বিস্তারিত
দৈনিক অনুসন্ধান : ইকরামুল হক, বিশেষ প্রতিনিধি: বর্তমান বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে আদর্শিক শূন্যতা, নৈতিক অবক্ষয় ও ...বিস্তারিত
দৈনিক অনুসন্ধান : লামা-আলীকদম সড়কের লাইনঝিরি মোড়ে জায়গা জবর দখল চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে, একজন বিজিবি সদস্যর বিরুদ্ধে ...বিস্তারিত
মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের নোয়াহাট এলাকায় শিপন (৩৫) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে ক...বিস্তারিত
দৈনিক অনুসন্ধান : জাহিদ হাসান,লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।।বান্দরবানের লামায় আন্তর্জাতিক সেবা মূলক সংস্থা এপেক্স ক...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 dailyonusondhan | Developed By Muktodhara Technology Limited