শিরোনাম
অনুসন্ধান অনলাইন ডেস্ক | ০১:৩৬ পিএম, ২০২০-০৭-২৯
এম এ মান্নান মিনহাজ, বিশেষ প্রতিনিধি
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষগুলোর জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন চিকিৎসকরা; সংক্রমণ ঠেকাতে কাজ করছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আর দেশের মানুষগুলোর জীবিকা বাঁচাতে কাজ করছে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মীরা। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শুরু থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন বন্দর কর্মীরা। এই আমদানি পণ্যের মধ্যে যেমন ভোগ্যপণ্য আছে; তেমনি আছে জীবন বাঁচানোর ওষুধ তৈরির কাঁচামাল; আছে করোনা প্রতিরোধে সম্মুখসমরে কর্মরত কর্মীদের জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীও।
উল্লেখ্য, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির ৮২ শতাংশ আসে; আর রপ্তানি পণ্যের ৯১ শতাংশই যায় এই বন্দর দিয়ে। সুতরাং আমদানি-রপ্তানির এই গতিতে সামান্য নেতিবাচক প্রভাব পড়লে তা পুরো দেশের অর্থনীতির ওপরই বড় প্রভাব পড়ে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা সংক্রমন ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটির পর চট্টগ্রাম বন্দরের কাজ এক ঘণ্টার জন্যও বন্ধ থাকেনি; দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সচল থাকায় রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশে ভোগ্যপণ্যে সরবরাহ সংকটের সৃষ্টি হয়নি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কাঁচামাল ছাড় দেয়ায় ওষুধ তৈরির জন্য কারখানাকে বসে থাকতে হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কাঁচামাল সরবরাহ ঠিক ছিল বলেই সঠিক সময়ে দেশেই ভেন্টিলেটর তৈরি করা সম্ভব হয়েছে; মাস্ক, গ্লাভস, পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী দেশের কারখানায় উৎপাদন হয়েছে।
এই অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রাখতে গিয়ে বন্দরে অনেক কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন; এর মধ্যে মারা গেছেন দুজন কর্মী। ঝুঁকি আছে জেনেও সাহস নিয়ে বিদেশি নাবিকদের সাথে মিলে পণ্যবাহী জাহাজ চালিয়ে এনেছেন বন্দর পাইলটরা। সকাল থেকে সাহরি পর্যন্ত জেটিতে দাঁড়িয়ে থেকে পণ্য ওঠানামা তদারকি করেছেন কর্মীরা; গেইট দিয়ে প্রবেশে মাস্ক, গ্লাভস পরাসহ সুরক্ষা নিশ্চিত করে ভেতরে প্রবেশ করতে দিয়েছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। কাজ করতে গিয়ে হতাশ হলে কর্মকর্তারা গিয়ে কর্মীদের উদ্ধুদ্ধ করেছেন। এত বড় ঝুঁকি নিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানি সচল রাখলে অথচ দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে জড়িত বন্দরের এই কর্মীদের কাজের স্বীকৃতি মেলেনি সরকারিভাবে কিংবা গণমাধ্যমের প্রচারণায়ও।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ দৈনিক অনুসন্ধানকে বলেন, কোনো প্রণোদনা পাবেন এমন আশা নিয়ে বন্দর কর্মীরা করোনা ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কাজ করেননি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্মীদের প্রধান লক্ষ্য ছিল বন্দরকে ২৪ ঘণ্টা পুরোদমে সচল রাখা; কোনো ক্রমেই যেন পণ্য সরবরাহ বন্ধ না হয়। বিশাল চ্যালেঞ্জ এবং মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বন্দর কর্মী এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের সম্মিলিত চেষ্টায় এই কাজটি করতে পেরেছি, এখনও করছি। এর নেপথ্যে ছিল কর্মীদের দেশপ্রেম। দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন কাজের সুফল এর মধ্যে দেশের মানুষ পেয়েছেন। এই কাজের স্বীকৃতি তাদের মনোবলকে আরো বাড়িয়ে দেবে।
তিনি বলেন, করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ২৬ মার্চ সরকারি ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করলেও বন্দরে কোনো ছুটি ছিল না। প্রথমদিকে আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত সরকারি অফিস, শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বন্দরে আটকা পড়েছিল বিপুল পণ্য। এর মধ্যে রমজানের ভোগ্যপণ্য, জরুরি ওষুধ পণ্য বাছাই করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছাড় দেওয়াও ছিল অন্যতম প্রধান কাজ। সেটি সর্বোচ্চ ভালোভাবে করার চেষ্টা করেছি। জাহাজজট লেগেছিল; স্থান খালি করতে দ্রুত পণ্যছাড় দিতে আমরা বিনা মাশুলের সুযোগ দিয়েছি। বন্দর এক মুহূর্ত যাতে বন্ধ না হয় সে জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। এর প্রধান লক্ষ্য অর্থনীতির চাকা যাতে সচল থাকে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি পণ্য ওঠানামা সচল রাখতে তিনটি বিভাগ সবচে' গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে বন্দরের পরিবহন বিভাগ। এই বিভাগে প্রায় ১২ শ কর্মী সরকারি সাধারণ ছুটির মধ্যেও বন্দর সচল রাখতে কাজের শিফট ভাগ করে নিয়েছে। জাহাজ আসার পর পণ্য ওঠানামার কাজ করে থাকে একজন টার্মিনাল অপারেটর ও ১২ জন বার্থ অপারেটর। বন্দরের পরিবহন বিভাগের নেতৃত্বে তারা কাজটি করে থাকে।
শুরুর দিকে পরিবহন বিভাগসহ অনেক বিভাগের কর্মীদের কাজে যোগ দিতে অনীহা দেখা দেয়; আতঙ্কিত ছিলেন অনেকেই। কিন্তু পরিবহন বিভাগের পরিচালক এনামুল করিম, টার্মিনাল ম্যানেজার কুদরত ই খোদা মিল্লাতসহ বেশ ক'জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিজেরা জেটিতে-শেডে দাঁড়িয়ে থেকে কর্মীদের কাজে গতি আনতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এমন সময় গেছে জেটিতে দাঁড়িয়েই তারা ইফতার করেছেন; রাতে কাজ শেষে বাসায় গিয়ে সাহরি খেয়েছেন। আবার সকালেই যোগ দিয়েছেন বন্দরে।
পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকি কমাতে কাজ শেষে বাসায় গেলেও থেকেছি পৃথক কক্ষে। খাওয়া-দাওয়া করেছি পৃথকভাবে। পরিবারের সদস্যদের চোখে দেখেছি, শব্দ শুনেছি কিন্তু আদর করতে পারিনি। প্রথমদিকে তারা আতঙ্কিত থাকলেও এখন মেনে নিচ্ছেন।
বন্দরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হচ্ছে মেরিন বিভাগ; এই বিভাগের কর্মীরা বহির্নোঙরে আসা বিদেশি জাহাজে উঠে সরাসরি বিদেশি নাবিকদের সংষ্পর্শে যান।
দৈনিক অনুসন্ধান : নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো...বিস্তারিত
অনুসন্ধান অনলাইন ডেস্ক : ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১-এর যাত্রীদের মক্কা ও মদিনায় হোটেল ...বিস্তারিত
দৈনিক অনুসন্ধান : নিউ ইয়র্ক অফিস: আমেরিকার অভিবাসী হিসেবে স্বপ্ন পূরণের পথে নানা ঘাত প্রতিঘাতের গল্প নিয়ে বাংলাদে...বিস্তারিত
মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি : বিএনপি'র নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) তরিকুল আলম তেনজিং চট্টগ্রাম-৩, সন্দ্বীপ...বিস্তারিত
অনুসন্ধান অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামনে জোট ও আসন সমঝোতার রাজনীতি তুঙ্গে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদ...বিস্তারিত
অনুসন্ধান অনলাইন ডেস্ক : জনপ্রিয় অভিনেতা হাসান মাসুদ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে প্রচণ্ড ম...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 dailyonusondhan | Developed By Muktodhara Technology Limited